ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি উৎকৃষ্ট সবজি চিচিংগা চাষ পদ্ধতি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১৭৭১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

একটি উৎকৃষ্ট সবজি চিচিংগা চাষ পদ্ধতি

 

চিচিংগা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। সুস্বাদু সবজীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

চিচিঙ্গার উন্নত জাত:

স্থানীয় জাতের  ছাড়া চিচিংগা উফসী জাতের বারী-১ ও বারী-২ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের চিচিংগা চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড, লালতীর, গেটকো, এসিআই, ইয়ং এর হাইব্রিড বীজ গুলো বেশ ভালো। 

জেনে নিন>> ধুন্দল চাষ

কেমন জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করবেন?

বাংলাদেশের সব এলাকা চিচিংগা চাষের উপযোগী। দোঁআশ পলি দো-আশ মাটি চিচিংগা চাষের জন্য বেশী উপযোগী। চিচিংগা চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫০  সেঃ থেকে ৩০০ সেঃ।

কখন চিচিঙ্গা বীজ বপণ করতে হবে?

পৌষ ও মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চিচিংগা চাষ করা যায়। তবে ফাল্গুন-চৈত্র মাস চিচিংগা বপনের উপযুক্ত সময়।

জেনে নিন>> করলা বা উচ্ছে চাষ পদ্ধতি

 

জমিতে কি পরিমান চিচিঙ্গা বীজের প্রয়োজন:

প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে।

কিভাবে চিচিঙ্গা বীজ বপন করতে হবে?

চিচিংগা বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

 

এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়। সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে। চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে। প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

  কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে?

 

ভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর পর সার প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

 

সার প্রয়োগ জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি ৮০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম
জিংক ৫০ গ্রাম
বোরণ ৫০ গ্রাম

ডি এ পি ব্যবহার করলে প্রতি শতাংশে ৫০ গ্রাম কম ইউরিয়া ব্যবহার করতে হবে।

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ও ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন চিচিংগা পাওয়া যায়।

আরও জেনে নিন>>  লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

কিভাবে চিচিঙ্গার বালাই ও পোকামাকড় দমন করতে হবে?

চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। চিচিংগা পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে।

নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না। ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

আরও জেনে নিন>> তরমুজ চাষ পদ্ধতি

 

চিচিঙ্গার পরবর্তী পরিচর্যা কি ভাবে করতে হবে:

চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে। নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।  আগাছা দমন করতে হবে। মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

একটি উৎকৃষ্ট সবজি চিচিংগা চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

 

একটি উৎকৃষ্ট সবজি চিচিংগা চাষ পদ্ধতি

 

চিচিংগা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। সুস্বাদু সবজীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

চিচিঙ্গার উন্নত জাত:

স্থানীয় জাতের  ছাড়া চিচিংগা উফসী জাতের বারী-১ ও বারী-২ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের চিচিংগা চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড, লালতীর, গেটকো, এসিআই, ইয়ং এর হাইব্রিড বীজ গুলো বেশ ভালো। 

জেনে নিন>> ধুন্দল চাষ

কেমন জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করবেন?

বাংলাদেশের সব এলাকা চিচিংগা চাষের উপযোগী। দোঁআশ পলি দো-আশ মাটি চিচিংগা চাষের জন্য বেশী উপযোগী। চিচিংগা চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫০  সেঃ থেকে ৩০০ সেঃ।

কখন চিচিঙ্গা বীজ বপণ করতে হবে?

পৌষ ও মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চিচিংগা চাষ করা যায়। তবে ফাল্গুন-চৈত্র মাস চিচিংগা বপনের উপযুক্ত সময়।

জেনে নিন>> করলা বা উচ্ছে চাষ পদ্ধতি

 

জমিতে কি পরিমান চিচিঙ্গা বীজের প্রয়োজন:

প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে।

কিভাবে চিচিঙ্গা বীজ বপন করতে হবে?

চিচিংগা বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

 

এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়। সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে। চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে। প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

  কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে?

 

ভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর পর সার প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

 

সার প্রয়োগ জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি ৮০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম
জিংক ৫০ গ্রাম
বোরণ ৫০ গ্রাম

ডি এ পি ব্যবহার করলে প্রতি শতাংশে ৫০ গ্রাম কম ইউরিয়া ব্যবহার করতে হবে।

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ও ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন চিচিংগা পাওয়া যায়।

আরও জেনে নিন>>  লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

কিভাবে চিচিঙ্গার বালাই ও পোকামাকড় দমন করতে হবে?

চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। চিচিংগা পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে।

নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না। ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

আরও জেনে নিন>> তরমুজ চাষ পদ্ধতি

 

চিচিঙ্গার পরবর্তী পরিচর্যা কি ভাবে করতে হবে:

চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে। নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।  আগাছা দমন করতে হবে। মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

 

Facebook Comments Box